দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় মৃত্যুর আগে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে দায়ী করার অভিযোগ রেখে মেঘনা খাতুন (২১) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ভিডিওতে তিনি স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৩ আগস্ট) ভোর রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মেঘনা কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার হারুন উর রশিদের মেয়ে। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়াগড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের গোলাম আজমের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ভালোবেসে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, গোলাম আজম এক নারীর সঙ্গে ফেসবুকে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে গত শনিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মেঘনাকে মারধর ও গলা চেপে ধরার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর মেঘনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি তার মৃত্যুর জন্য স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে দায়ী করেন এবং স্বামীর পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
রোববার বিকেলে গোলাম আজম মুঠোফোনে মেঘনার গলায় ফাঁস দেওয়ার খবর তার বাবার পরিবারকে জানান। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে স্বজনরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।
ঘটনার পর থেকে গোলাম আজমসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। ফলে এ অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওটি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।
এমএম/